মেয়েরা বিয়ের আগে মি’লনের জন্য রাজি হয়ে যায় ১০টি কারণে

মেয়েরা বিয়ের আগে মি’লনের জন্য রাজি হয়ে যায় ১০টি কারণে

 

ভ’য়ংকর কুটনামি আর পর’কী’য়ার আরেক নাম ভা’রতীয় সিরিয়াল

 

ভা’রতীয় সিরিয়াল অনেক আগে থেকেই জনপ্রিয় বাংলাদেশ। প্রতিদিনই নতুন নতুন পর্ব আর ঘটনার চ’মকের কারণে অনেকের কাছে সিরিয়ালগুলো এখন নে’শার মত। সন্ধ্যা হলেও শহর থেকে গ্রাম সবখানেই একচেটিয়া আধিপত্য শুরু করে ভা’রতীয় সিরিয়ালগুলো।

এমন ভ’য়ংকর নে’শায় মত্ত হয়ে আছে বাংলাদেশের অধিকাংশ নারী। কলকাতার স্টার জলসা, জি বাংলা কিনবা হিন্দিতে স্টার প্লাস, স্টার ওয়ান, জি টিভিতে চলা সিরিয়ালগুলো নারীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এমনকি অনেক পুরুষও আজকাল ঘটা করেই দেখছেন এসব সিরিয়াল।

ঢাকার পাশাপাশি মফস্বলেও ভ’য়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে এই আসক্তি। আর ভা’রতীয় সিরিয়ালের বিষাক্ত ছোবলের ভ’য়ঙ্কর প্রভাব পড়ছে সমাজের উপরে।

আসুন জেনে নেয়া যাক ভা’রতীয় সিরিয়ালের বিরূপ প্রভাবগুলো, যা মূলত ধ্বংস করছে আপনার জীবন!

 

 

সংসারে ‘কুটনামি’ করে অশান্তি বৃদ্ধি করা

ভা’রতীয় সিরিয়ালগুলোর মূল উপাদান নিঃস’ন্দেহে কুটনামি। প্রতিদিনই সিরিয়ালে দেখানো হচ্ছে শাশুড়ি-বৌ এর কুটনামি, দুই জা এর কুটনামি কিংবা পরিবারের অন্যদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র ও কুটনামি। সিরিয়ালে দেখানো এসব ঘটনা ‘স্লো পয়জন’ এর মত কাজ করছে নারীদের ওপর। নিজের অজান্তেই কুটনামি করা শিখে ফেলছেন নারীরা। এক পর্যায়ে মনের বি’কৃতির কারণে কুটনামি করেই বি’কৃত রুচির বিনোদন পাচ্ছেন আমাদের সমাজের কিছু সংখ্যক সিরিয়াল প্রে’মীরা।

সাধারণ বিষয়কেও জটিল মনে করে মানসিক চাপে ভোগা

সাধারণ বিষয়কেও জটিল মনে করে মানসিক চাপে ভোগা ভা’রতীয় সিরিয়ালে অনেক সাধারণ একটি বিষয়কেও জটিল করে দেখানো হয়। আর তাই যারা নিয়মিত এসব সিরিয়াল দেখে তাদের কাছে খুব সহ’জ, সাধারণ একটি বিষয়কেও অনেক বেশি জটিল ও কুটিল মনে হতে থাকে। ফলে অযথাই মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায় তাদের।

 

 

অন্যের স’ম্পর্কে আলোচনা-সমালোচনা করা

ভা’রতীয় সিরিয়ালের দেখা দেখি একের কাছে অন্যের সমালোচনা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সমাজে। বান্ধবীদের কাছে, বোনদের কাছে কিংবা অন্য কারো কাছে সমালোচনা করে আনন্দ পাচ্ছে নারীরা। কে কী’ পোশাক পরছে, কার কতটুকু সম্পত্তি আছে, কার সন্তান আছে কার নেই ইত্যাদি অনধিকার চর্চার অভ্যাস বাড়ছে।

ভা’রতীয় সংস্কৃতির বিরূপ প্রভাব

আমাদের দেশের বিয়ের অনুষ্ঠান, জন্ম’দিন, পূজা, ঈদ, স’ম্পর্ক সব কিছুতেই পড়েছে ভা’রতীয় সিরিয়ালের প্রভাব। হিন্দি সিরিয়ালের মতো করে অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করা কিংবা ভা’রতীয় প্রথা অনুসরণ করার কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে নিজস্ব দেশীয় সংস্কৃতি।

অ’তিরিক্ত সাজ পোশাক ও মেকআপ করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া

ভা’রতীয় সিরিয়ালের নায়িকারা মেকআপ করে ঘুমাতে যায়, ঘুম থেকে ওঠে, শপিং যায়। এমনকি গোসল করে আসার পরেও মেকআপ করা থাকে। আর তাই সিরিয়াল আসক্ত নারীদের মধ্যেও অ’তিরিক্ত মেকআপ করা ও সিরিয়ালের নায়িকাদের মত দামী দামী সাজ পোশাক পড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করার মত বাড়ছে।

লোক দেখানো কাজ করা

কার কত দামী শাড়ি আছে, সিরিয়ালের নায়িকাদের স্টাইলের শাড়ি, গলার হার ইত্যাদি সিরিয়ালের ভক্ত নারীদের ধ্যান-জ্ঞান হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার চাইতে কে বেশি খরচ করে এসব কিনতে পারবে ও বান্ধবীদেরকে দেখাতে পারবে না নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা হয় নিজেদের মধ্যে। অ’সুস্থ এই প্রতিযোগিতায় যারা হেরে যায় তাদেরকে কটাক্ষ করতেও দ্বিধা করেন না অনেকে।

পর’কী’য়ার প্রবণতা

ভা’রতীয় সিরিয়ালে অহরহই যে বিষয়টি দেখাচ্ছে তা হলো পর’কী’য়া। প্রতিটি সিরিয়ালেই পর’কী’য়া হলো ঘটনার একটি মূল উপাদান। নৈতিকতা বিরোধী এই স’ম্পর্ক অ’তিরিক্ত দেখার কারণে বেশ স্বাভাবিক মনে হচ্ছে গৃহিণীদের কাছে। তাই একটু সুযোগ পেলেই পর’কী’য়ায় লিপ্ত হচ্ছে অনেক নারী বা পুরুষ। এমনকি অ’নৈতিক শারীরিক স’ম্পর্কে জড়িয়ে যাচ্ছে অনেকে।

 

 

পড়াশোনায় ক্ষতি

স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া অনেক মে’য়েরা ও কিছু সংখ্যক ছে’লেরাও সিরিয়ালে আসক্ত। প্রতিদিন পড়াশোনার মূল সময়টি তারা নষ্ট করে এসব সিরিয়াল দেখে। তাদের মা, নানি, দাদিরাও সেই সময়ে বসে সিরিয়াল দেখে বলে সন্তানদেরকে মানা করতে পারেন না। ফলে তাদের পরীক্ষার ফলাফল খা’রাপ হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কম বয়সেই ঝরে পড়ছে পড়াশোনা থেকে।