ক্ষয়ক্ষতির হিসাব মেলাতে দিশাহারা বন্যাদুর্গতরা

অধিকাংশ প্লাবিত এলাকা থেকে নেমে গেছে বন্যার পানি। তবে রয়ে গেছে ক্ষতচিহ্ন। ভেঙে চুরমার রাস্তাঘাট। নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকের ফসল। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। ভেঙে গেছে বাড়িঘর। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির সেই হিসাব মেলাতে গিয়ে চোখে যেন শর্ষের ফুল দেখছেন দুর্গত এলাকার দরিদ্র মানুষগুলো। এর মধ্যে আবার ঘরে নেই খাবার, দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় হাতে নেই টাকা-পয়সা। সব মিলে বন্যার পানি নামলেও দুর্গত এলাকার মানুষগুলো ফিরতে পারছেন না স্বাভাবিক জীবনে। আগামী দিন কীভাবে চলবে সেই দুশ্চিন্তা প্রতিটি ঘরে। সরকারি সহায়তার পথ চেয়ে ক্ষণ গুনছেন অভাগা মানুষগুলো। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের গতকাল সকালের তথ্যমতে, বর্তমানে কোনো জেলায় বন্যা নেই। গঙ্গা ও আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর পানি হ্রাস পাচ্ছে। স্থিতিশীল আছে ব্রহ্মপুত্র ও পদ্মা নদীর পানি সমতল। তবে বাড়ছে যমুনার পানি। একদিনের ব্যবধানে গতকাল সকালে ১০১টি পর্যবেক্ষণাধীন পানি সমতল স্টেশনের ২৮টিতে পানি বৃদ্ধি পায়। হ্রাস পায় ৬৮টির, অপরিবর্তিত ছিল পাঁচটি স্টেশনের পানি সমতল। গুড় ও ধলেশ্বরী নদী এবং টঙ্গী খালের পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার পানি নামলেও এখনো অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে আছে। বগুড়া থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, জেলার কিছু নিচু এলাকা এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চতুর্থ দফা যমুনা নদীর পানি বাড়ায় বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দী মানুষ কেউই ঘরে ফিরতে পারছে না। কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, গতকাল থেকে সব নদ-নদীর পানি কমায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।