নেইমার-এমবাপ্পের সামনে রেকর্ডের হাতছানি

করোনার কারণে এবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ফাইনাল পর্যন্ত বিশ্বকাপের আদলে হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। আর এ কারণে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের উত্তেজনা বহুগুণে বেড়ে গেছে। কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ এক লেগের হওয়ায় ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ পাচ্ছে না দলগুলো। ফলে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করছে তারা।

এই মৌসুমের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় নেইমার-এমবাপ্পের ক্লাব পিএসজি ও ইতালিয়ান ক্লাব আটলান্টা। ইতালির ক্লাবটির বিপক্ষে ম্যাচের ৯০-৯৩ মিনিটের মধ্যে নাটকীয়ভাবে দুই গোল করে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় পিএসজি। আগামী ১৮ আগস্ট প্রথম সেমিফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে জার্মান ক্লাব ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে নাটকীয় জয় পাওয়া আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে। এই ম্যাচটিতে জয় পেয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ইতিহাস গড়ার হাতছানি দিচ্ছে নেইমার ও এমবাপ্পের সামনে।

ফরাসি শক্তিশালী দল পিএসজি ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় অনেক অনেক সাফল্য পেলেও এখন পর্যন্ত ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালেও খেলতে পারেনি তারা। শুধু তাই নয় এ নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে পিএসজি। প্রথমবার তারা সেমিতে খেলে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে। এরপর ২৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো আবার শেষ চারে খেলার টিকেট পেয়েছে তারা। আর যেহেতু কখনোই ফাইনালে খেলা হয়নি তাই কখনো জেতা হয়নি এই প্রতিযোগিতার শিরোপা। এখন নেইমার ও এমবাপ্পের হাত ধরে এই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে ক্লাবটির সমর্থকরা। অবশ্য অন্যদিকে লাইপজিগের সামনেও রয়েছে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। কারণ তারাও এবারই প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাও প্রতিষ্ঠার মাত্র ১১ বছরের মাথায়। ফলে তারাও চায় শিরোপা জিততে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা মেসি ও রোনালদোর মতো বড় তারকাদের হাতেই যায়। কিন্তু এবার আর মেসি ও রোনালদো কারোরই শিরোপা জয় করা হচ্ছে না। কারণ রোনালদোর জুভেন্টাস রাউন্ড ষোল ও মেসির বার্সেলোনা শুক্রবার বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ৮-২ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে বিধ্বস্ত হয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়।

এই মৌসুমটাই যেন পুরো বিধ্বস্ত অবস্থায় শেষ হয়েছে বার্সার জন্য। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে নামার আগেই তারা পায় বড় ধরনের একটি দুঃখ্যের সংবাদ। তাদের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার উমিতিতির করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর বের হয়। এমন মন খারাপ করার মতো একটি সংবাদ নিয়েই তারা কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে নামে। সেখানে তারা বিধ্বস্ত হয়। আর এই একটি ম্যাচে বিধ্বস্ত হওয়ার মাধ্যমে আরো অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে পড়ে তারা। এর মধ্যে খবর শোনা যাচ্ছে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তাদের বর্তমান কোচ কিকে সেতিনকে বরখাস্ত করা হবে। এটিও শোনা যাচ্ছে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন টটেনহ্যামের আর্জেন্টাইন কোচ মারিসিও পচেত্তিনো।

এরপর বার্সার রক্ষণভাগের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত সৈনিক জেরার্ড পিকেও জানিয়েছেন দলের যদি প্রয়োজন হয় তাহলে তিনি তার প্রাণের ক্লাব বার্সেলোনা ছেড়ে দেবেন। তার এমন ঘোষণার পরও কিছুটা মন খারাপ হয়েছে বার্সার সমর্থকদের। কিন্তু একটা সময় সবকিছুরই পরিবর্তন আনতে হয়। হয়তো এই পরিবর্তনের স্রোতে ভেসে অন্য ক্লাবে চলে যেতেও পারেন পিকে। তাছাড়া মেসিও দল ছাড়ার হুমকি দিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন দলে বড় রকমের পরিবর্তন না আসলে তিনি বার্সা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাবেন।